Archive for মে, 2010

মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে এক ধাপ


কিছুদিন মাত্র গত হইয়াছে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের। সিংহ ভাগ শিক্ষার্থীই তাহাদের জীবনে প্রথমবারের মতো এত বৃহৎ আকৃতির কোন পরীক্ষাতে অবতীর্ন হইয়াছিল। দীর্ঘ দশ বছরের সাধনার ফসল তাহারা অবশেষে পাইয়াছে। অনেকেই হয়ত কাঙ্খিত ফল পাইয়া আনন্দে আত্মহারা, কেহ হয়তো কাঙ্খিত ফল না পাইয়া দুঃখে বাক্যহারা আবার কেহবা অকৃতকার্য হইয়া গৃহ হইতে বহিষ্কৃত হইয়া সর্বহারা। বর্তমানে এই তিনটি দল প্রতীয়মান হইলেও আশা প্রকাশ করিতেছি সেই দিন আর বেশী দূরে নাই যখন শুধুমাত্র দুইটি দলই টিকিয়া থাকিবে। কোন দুইটি? প্রথম এবং শেষ দুইটি! পাঠক বোধকরি এতক্ষনে ভ্রু কুঞ্চিত করিয়া ভাবিতেছেন, এই পাগলটি কি প্রলাপ বকিতেছে! তাহলে পাঠকদিগকে আমার অনুরোধ, একটু ধৈর্য ধারন করিয়া আমার রচনাটি পড়িয়া সমাপ্ত করিলে আশা করিতেছি আপনারাও আমার সহিত একমত হইবেন।

বর্তমান সরকার যখন ক্ষমতার আরোহন করার লক্ষ্যে নির্বাচনে অবতীর্ন হইয়াছিলেন তখন তাহারা নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করিয়াছিলেন যে, বাংলাদেশকে; ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপে গড়িয়া তুলিবেন। বর্তমান যুগটাই হইতেছে কম্পিউটার তথা গণনাযন্ত্রের যুগ। এই যুগে উক্ত যন্ত্রটি ছাড়া বাঁচিয়া থাকা প্রায় অসম্ভব হইয়া পড়িয়াছে। হাটে-ঘাটে, গ্রামে-গঞ্জে, শহর-বন্দরে সকল স্থানে উক্ত যন্ত্রটির দৌড়াত্ম। যোগাযোগ হইতে শুরু করিয়া বিনোদন সকল ক্ষেত্রে আমরা এই যন্ত্রটির উপর পূর্ণমাত্রায় নির্ভরশীল হইয়া পড়িয়াছি। পরিস্থিতি এমন হইয়া গিয়াছে যে, পূর্বকালের বিভিন্ন সময়কে যেমন বিভিন্ন নামে আখ্যায়িত করা হইতো (যথা প্রাগৈতিহাসিক যুগ, অন্ধকার যুগ, মধ্যযুগ, আধুনিক যুগ) তেমনি করিয়া বর্তমান কালের নাম হইয়া গিয়াছে “ডিজিটাল যুগ”। এই ডিজিটাল যুগের বাসিন্দা হইয়া আমদিগের দেশও ডিজিটাল হইয়া যাইবে এবং পৃথিবীকে সম্মুখপানে আগাইয়া লইয়া যাইতে সহায়তা করিবে ইহাই তো হইবে সাধারন জনগনের কামনা। এতদ কারনে সংসদ নির্বাচনের সময় ইশতেহারের উক্ত আশ্বাস এক বৃহৎ ভূমিকা পালন করিবে তাহা বলাই বাহুল্য। হইয়াছেও তাহাই। জনগন তাহাদের মঙ্গল কিসে হয় তাহা খুবই ভালো বুঝিতে পারে সর্বকালেই।

নতুন সরকার ক্ষমতা হাতে লওয়ার পর সাধারন জনগন ভাবিয়াছিল এইবার হয়তো ঘরে ঘরে এই আধুনিক গণনাযন্ত্রটি পৌছাইয়া যাইবে। আকাশে-বাতাসে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবাতাস বইবে। কেহ কেহ হয়তো ভাবিয়াছেলেন দেশের নাম পরিবর্তন করিয়া “গণপ্রজাতন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ” রাখা হইবে। কিন্তু জনগন অত্যন্ত হতাশ হইয়া দেখিতেছিল যে সরকার এইরূপ কোন পদক্ষেপই গ্রহন করিতেছে না। তথাপি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিদ্যুত সমস্যা লইয়া জনগন যারপরনাই ত্যাক্ত-বিরক্ত হইয়া উঠিয়াছিল। কিন্তু সরকার তাহাদের পরিকল্পনা যে কতটা সুচিন্তিত ভাবে করিয়াছে তাহা সাধারন জনগন অনুধাবন করিতে পারঙ্গম হয় নাই। তাহার কারনেই এই সকল অসুহিষ্ণতা তৈয়ারি হইয়াছে। কিন্তু সম্প্রতি সরকার মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করিয়া বুঝাইয়া দিয়াছে যে তাহারা জনগনকে মিথ্যা আশ্বাস দেন নাই। পাঠক হয়তো ভাবিতেছেন, ইহা কিরূপ কথা হইলো। মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলের সহিত ডিজিটাল বাংলাদেশের কি সম্পর্ক হইতে পারে? আছে, সম্পর্ক অবশ্যই আছে।

আপনারা যাহারা ডিজিটাল ব্যবস্থাটির সম্পর্কে কিঞ্চিত অবগত আছেন, তাহারা হয়তো জানিয়া থাকিবেন যে ডিজিটাল ব্যবস্থায় ১ এবং ০ ব্যতিত অন্য কিছু নাই। ব্যপারটা আপনাদের নিকট আজব ঠেকিলেও ইহাই সত্য। ধরা যাক আপনি ইংরিজী ভাষায় লিখিতে চাহিতেছেন ‘A’ তাহা হইলে ডিজিটাল মাধ্যমে তাহা ১০০০০০১ রূপে প্রতিস্থাপিত হইয়া যাইবে এবং গণনাযন্ত্র তাহা সেই রূপেই হিসাব করিবে। ইহাই ডিজিটাল ব্যবস্থার মূল তত্ব এবং ইহার উপরই দাড়াইয়া আছে বর্তমান যুগ। সরকার এই ব্যবস্থাটিকে এখন চাহিতেছেন সকল স্থানে ছড়াইয়া দিতে। সে লক্ষ্যে তাহারা অনেকদূর অগ্রসরও হইয়া গিয়াছেন। মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলই সে কথা বলিয়া দেয়। বর্তমানে দেশে যেভাবে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় সেই নিয়মে সর্বোচ্চ ফলাফল হইতেছে জিপিএ ৫। স্বভাবতই সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করাটা দুষ্কর হইবারই কথা, কিন্তু যখন প্রায় ৯ লক্ষ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮২,৯৬১ জন তা অর্জন করিয়া ফেলে তখন কিঞ্চিত অবাক হইতেই হয়। ইহা দেখিয়া আমিও অবাক হইয়াছিলাম। কিন্তু ক্ষনকাল এই বিষয় লইয়া ভাবিবার পরেই আমি বুঝিতে পারিলাম সরকার নিশ্চয়ই এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহন করিয়াছে। যেহেতু একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় কৃতকার্য হইয়াছে ইহার চেয়ে একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করিয়াছে ইহা শুনিতে অধিকতর উত্তম লাগে তাই সরকার নিশ্চয়ই সিদ্ধান্ত লইয়াছে যাহারা কৃতকার্য হইবে তাহাদের সকলকে সর্বোচ্চ ফলাফল প্রদান করা হইবে। অন্য সকলকে অকৃতকার্য করা হইবে। শিক্ষার্থীরা যতদিন না সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনে সক্ষম হইবে ততদিন পর্যন্ত তাহাদের কৃতকার্য হইবার কোন যোগ্যতাই নাই। তাহা হইলে দেখা যাইতেছে যে পরীক্ষার ফলাফলও ১ এবং ০ এই রূপ হইয়া গিয়াছে। আর তাহাই যদি হইয়া থাকে তাহা হইলে সরকারকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাইতে হইবে, কেননা শিক্ষিত মানুষ ব্যতিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া কখনোই সম্ভব হইবে না। এখন যদি সেই শিক্ষিত হইবার প্রথম সোপানটাই ডিজিটাল হইয়া যায়, তাহা হইলে তো শিক্ষার্থীগণ প্রথম হইতেই ডিজিটাল ব্যবস্থা কি তাহা বুঝিয়া যাইবে। আরো কয়েক সোপান আরোহন করিবার পর তাহারাই সম্পূর্নরূপে ডিজিটাল হইয়া যাইবে। যখন মানুষ সকলই ডিজিটাল; তখন বাংলাদেশ ডিজিটাল না হইয়া যাইবে কোথায়।

আমি তাই শিক্ষার্থীগণের নিকট আবেদন করিতেছি যেন তাহারা সরকারকে সহায়তা করে যাহাতে সরকার জিপিএ ৫ এবং অকৃতকার্য এর মধ্যবর্তী যে সকল ফলাফল আছে তাহাকে বাতিল বলিয়া ঘোষনা করিতে পারে। কেননা ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে এখন তাহারাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করিতেছে।

তথ্যঃ এসএসসির ফল: সাফল্যের আনন্দ দেশজুড়ে

Bookmark and Share

Advertisements

ছাত্র রাজনীতি, গুজব এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়


মূল রচনায় যাইবার পূর্বেই আপনাদিগকে আপন বাল্যকালে পঠিত একটি গদ্য বলিয়া লই।

সে অনেক কাল পূর্বের কথা। তৎকালে রাজা-রানীদের যুগ অতিবাহিত হইতেছিল। সেই কালেরই কোন এক রাজার কাহিনী। রাজার ছিল বৃহদাকৃতির রাজত্ব। রাজ্যের সকলেই সেইখানে সুখে-শান্তিতে বসবাস করিতেছিল। তথাপিও দিনকতক ধরিয়া রাজ্যের সকলেরই আনন্দের মাত্রা কিঞ্চিত অধিক বলিয়াই প্রতীয়মান ছিল। তাহার কারন হইতেছে অতীব শীঘ্রই মহামন্য রাজা মশাই এর ঘর আলো করিয়া তাহার প্রথম সন্তান এর জন্ম হইতে যাইতেছে। রাজবদ্যি সঠিক দিনক্ষণ জানাইয়া দিয়াছেন। সকলেই অধীর আগ্রহের সহিত অপেক্ষা করিতেছিল সেই দিনটির জন্য। দেখিতে দেখিতেই সেই শুভদিন আসিয়া উপস্থিত হইল। কিন্তু নতুন নবজাতককে দেখিয়া উপস্থিত সকলেই কমবেশি মনক্ষুন্ন হইলেন। তাহার কারন আর কিছুই নহে, নবজাতকের গাত্রবর্ণ স্বাভাবিকের চাইতে কিঞ্চিত অধিক কৃষ্ণ। উক্ত সন্দেশটি যখন রাজপ্রাসাদ হইতে বাহিরে একান ওকান ঘুরিয়া প্রচার হইল তখন এইরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হইল।

প্রথম কানে গেল, রানীমা এক কৃষ্ণ বর্ণের পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়াছেন। উহা যখন প্রথম কান ঘুরিয়া দ্বিতীয় কানে গেল তখন তাহা হইল, রানীমা এক অতীব কৃষ্ণ বর্ণের সন্তানের জন্ম দিয়াছেন। তৃতীয় কানে গেল, রানীমা কুচকুচে কৃষ্ণ বর্ণের এক সন্তানের জন্ম দিয়াছেন। চতুর্থ কানে তাহা হইল, রানীমা একেবারে কাকের ন্যায় কৃষ্ণ বর্ণের এক সন্তানের জন্ম দিয়াছেন। পঞ্চম কানে, রানীমা এমনতর কৃষ্ণ বর্ণের এক সন্তানের জন্ম দিয়াছেন যে তাহাকে দেখিয়া কাক বলিয়া ভ্রম হয়। ষষ্ঠ কানে, রানীমার গর্ভ হইতে এক কাকের জন্ম হইয়াছে। সপ্তম কানে, রানীমার গর্ভ হইতে একটি কাকের জন্ম হইয়াছে এবং তাহা উড়িয়া গিয়াছে। আর শেষ পর্যন্ত অষ্টম কানে যাইয়া তাহা হইলো, রানীমার গর্ভ হইতে এক ঝাঁক কাক বাহির হইয়া উড়িয়া চলিয়া গিয়াছে।

এইবারে আমার মূল রচনায় আসিতেছি। যাহারা বাংলাদেশে অবস্থান করিতেছেন এবং যাহারা করিতেছেন না তাহারাও বিভিন্ন সন্দেশপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের বর্তমান ছাত্র রাজনীতি সম্পর্কে অবগত আছেন। ইহা বাংলাদেশের এক অমূল্য সম্পদ। ইহার চর্চার কারনেই হয়তো আজ আমরা একটি স্বাধীন দেশে বসবাস করার অধিকার অর্জন করিয়াছি। সুতরাং দেশের কল্যাণে ইহার অবদান অস্বীকার করিবার উপায় কোনরূপেই আমাদিগের হস্তে নাই। কোন এককালে এই দেশে বিভিন্ন শাসকরা বিভিন্ন রূপে অনাচার চালাইয়াছেন। সেইকালে এই ছাত্রগণই আমাদের দেশকে মুক্ত করিয়াছে। ইহা যে আমাদের দেশের কত বড় সম্পদ তাহার একটা উদাহরন দেই। আপনি যদি বিখ্যাত অনুসন্ধান যন্ত্র Google এর মাধ্যমে এই বিষয়ে কোন তথ্যের খোঁজ করেন তাহা হইলে যে ফলাফল গুলো আসিবে তাহার অধিকাংশই বাংলাদেশ সম্পর্কিত। কিন্তু বর্তমানে আমরা একটি স্বাধীন দেশে বসবাস করিতেছি, তাহা বলিয়া কি আমাদিগের ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজন ফুরাইয়া গিয়াছে? অবশ্যই তাহা নহে। নিম্নে আমি বর্তমান কালে আমাদিগের দেশে ছাত্র রাজনীতির কি অপার প্রয়োজনীয়তা রহিয়াছে সেই বিষয়ে আলোকপাত করিবার চেষ্টা করিতেছি।

আপনারা সকলেই জানিয়া থাকিবেন যে, বর্তমানে জনসংখ্যাকে বাংলাদেশের প্রথম এবং প্রধান সমস্যারূপে চিহ্নিত করা হইয়াছে। জনসংখ্যা এতটাই বৃদ্ধি পাইয়াছে যে আজকাল শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া করিবার মাঠ তো দূরের কথা, মানুষের বসবাস করিবার স্থানই খুজিয়া পাওয়া দুষ্কর হইয়া উঠিয়াছে। সেই দিন হয়তো খুব বেশি দূরে নাই যেদিন উপর হইতে তাকাইলে শুধু মানুষই দেখা যাইবে, মানবের দেয়াল ভেদ করিয়া মৃত্তিকা দেখিবার কোন উপক্রম থাকিবে না। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে যাইয়া সরকারের অবস্থা হইয়াছে একেবারে মধ্য সমুদ্রে পতিত পিপিলিকার ন্যায়। এমতাবস্থায় সরকারকে সহায়তা করিতে ছাত্র সমাজ না আগাইয়া আসিলে আর কাহারা আগাইয়া আসিবে? হইয়াছেও তাহাই। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা গ্রহনরত ছাত্ররা হইতেছে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানরা। যেকোন বিষয়ই তাহারা অত্যন্ত দ্রুততার সহিত বুঝিতে পারঙ্গম। এইখানেও তাহারা বুঝিতে পারিয়াছে যে, দেশের এই জনসংখ্যা সমস্যার যদি সমাধান না করা যায়, তাহা হইলে এই দেশ আর বসবাসের যোগ্য থাকিবে না। সেই মর্মে তাহারা একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করিয়াছে। তাহা হইলো, বর্তমানে যে জনসংখ্যা আছে তাহা কমাইতে হইবে। এই ক্ষেত্রে কি করা যায়? হ্যা, পাঠক ঠিকই ধরিয়াছেন, যাহারা জীবিত আছে তাহাদের খতম করিয়া দিলেই তো ল্যাঠা চুকিয়া যায়। বিচক্ষন ছাত্র রাজনীতিকরাও তাহাই ভাবিয়াছেন এবং এই মহৎ কর্মেই তাহাদের সময় ব্যয় করিয়া দেশের এক অশেষ উপকার সাধন করিতেছেন। তথাপিও কিছু কিছু ব্যক্তি অর্বাচিন এর ন্যায় বক্তব্য দিতেছেন যে, ছাত্ররা বেপরোয়া হইয়া উঠিয়াছে, তাহাদের এই মূহুর্তে থামানো উচিৎ। কিন্তু ইহা বলিয়া তাহারা যে তাহাদের জ্ঞানের মাঝে এক সুবিশাল ঘাটতি রহিয়াছে ইহাই প্রমান করিতেছেন তাহা বুঝিতে সমর্থ হইতেছেন না। শুধু খতম করিয়াই নয়, এই সকল মহান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আরো একটি চমৎকার পন্থা অবলম্বন করিতেছেন। তাহা হইতেছে বিভিন্ন নারীদের (বিশেষ করিয়া তাহাদেরই সহপাঠিনীদের) বিভিন্ন রূপে অপদস্থ করিতেছেন। ইহাতে অনেক নারীই তাহাদের মূল্যহীন জীবন দীর্ঘায়িত করার কোনরূপ বাসনা আর পোষন করিতেছে না। ইহাতে যেমন দেশের একজন মানুষ কমিয়া উপকার হইলো, তেমনি ভবিষ্যতেও আরো কিছু জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা হইতেও দেশ আশঙ্কামুক্ত হইলো। কতই না সুগঠিত চিন্তা এই সকল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের। আহা, মধু মধু!

শুধু কি এইখানেই শেষ? না না, তাহা হইবে কেন। আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, ‘দৌড়’ স্বাস্থের জন্য একটি অত্যন্ত উপকারী ব্যায়াম। কিন্তু নাগরিক এই ব্যস্ত জীবনে নিয়ম করিয়া দৌড়াইবেন এমন সময় কাহার আছে। সেই কারনেই ছাত্র রাজনীতিকরা সকলের সুস্বাস্থ সুনিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা করেছেন ‘ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া’ নামক এক চমকপ্রদ ব্যবস্থার। ইহা একটি অতিশয় সুন্দর বন্দোবস্ত। এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মাঝে পড়িলে আপনাকে চাচা, আপন প্রাণ বাঁচা; এই বাক্যটি মনে করিয়া দৌড়াইতেই হইবে। ইহাতে একদিকে যেমন আপনার ব্যায়ামও হইবে অন্যদিকে তেমন মনও ভালো থাকিবে। কেননা সকলেই অবগত, সুস্থ দেহ; সুন্দর মন।

আমি নিজে যে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত তাহাতে অতীতে ছাত্র রাজনীতি বিদ্যমান ছিল না। ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আসিয়া তাহাদের শিক্ষার পাট চুকাইয়া যাইত মাত্র চারটি বছরে। কিন্তু ইহাতে যে এক বিপদের সম্ভাবনা রহিয়াছে তাহা ছাত্র রাজনীতিকগণ ব্যতিত আর কেহ আঁচ করিতে সমর্থ হন নাই। ভাবিতেছেন ইহাতে আবার কিরূপ বিপদ উপস্থিত হইতে পারে? তাহা হইলে বলিতেছি। একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্পন করে যখন তাহার বয়স অষ্টাদশ কিংবা উনবিংশ বৎসরহয়। মাত্র চারটি বছরে শিক্ষা জীবনের সমাপ্তি ঘটিলে দ্বাবিংশ অথবা ত্রয়োবিংশ বৎসর বয়স হইতে না হইতেই সে অর্থ উপার্জনের সক্ষমতা অর্জন করিয়া ফেলে। আর এইখানেই বিপত্তি ঘটিয়া যায়। বর্তমান যুগে দূরালাপনি অত্যন্ত সহজলভ্য হওয়ার দরূন বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকেই দেখা যায় জুটি পাতাইয়া আলাপচারিতায় মাতিয়া উঠিতে। ইহাদের মাঝে অনেকেই হয়তো শুধুমাত্র আনন্দের নিমিত্তে এই কর্মে সময় ব্যয় করিয়া থাকেন, কিন্তু সত্যিকার অর্থেই ভবিষ্যতের কথা ভাবিয়া একে অপরকে মন দিয়া বসিয়াছেন এমন জুটিও কম খুজিয়া পাওয়া যাইবে না। তাহা হইলে কি দাড়াইতেছে, সম্পর্ককে একটি সামাজিকভাবে স্বীকৃত বন্ধন দিতে হইলে বিবাহ করা আবশ্যক। কিন্তু আমাদের যে সমাজ ব্যবস্থা বিদ্যমান, তাহাতে পুরুষ যদি অর্থ উপার্জনে নিয়োজিত না থাকেন তবে বিবাহ করা চলে না। তাই যখন আমাদের এই সকল ছাত্ররা এত অল্প বয়সে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করিয়া কর্মজীবনে পদার্পন করিয়া স্বাবলম্বী হইতেছেন তখন তাহার মনের স্বপ্নের রানীকে সত্বর নিজ গৃহে আনার লক্ষ্যে বিবাহ করিবার কথা ভাবিতেছেন। আপনারা হয়তো ভাবিতেছেন ইহাতে সমস্যা কোথায়। হ্যা, সমস্যা আছে বৈকি। জনসংখ্যা সমস্যা নিরসনে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। তাহার মধ্যে বাল্যবিবাহ রোধও একটি। পূর্বে বিবাহের যে ন্যূনতম বয়স নির্ধারন করা হইয়াছিল শুনিতেছি বর্তমানে তাহা আরো বাড়াইয়া দেয়া হইবে। কিন্তু সত্যি কথা বলিতে কি, অর্থোপার্জনক্ষম একজন ব্যক্তির যখন বিবাহ করিবার বাসনা হইবে তখন কি এই আইন আর তাহাকে নিরস্থ করিতে পারিবে? সেই ক্ষেত্রে একটাই প্রতিকার, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন যথাসম্ভব দীর্ঘায়িত করিতে হইবে। পারিলে শেষই হইতে দেওয়া যাইবে না। এক্ষেত্রে ছাত্র রাজনীতি এক অমূল্য ভূমিকা পালন করিতেছে। ভবিষ্যতের এই সমস্যাটি পূর্বেই অনুধাবন করিয়া তা প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য আমি এই সকল রাজনীতিকদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

খালি করিয়া যাইতেছে কুয়েটের ছাত্ররা

কিছুদিন পূর্বেই এই রাজনীতির জের ধরিয়া আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধ হইয়া গিয়াছে। কিন্তু ইহা যে দেশের এক অমোঘ উপকার সাধনের নিমিত্তে করা হইয়াছে তাহা অনেকেই বুঝিতে সমর্থ হয় নাই, আর তাই তাহারা বিভিন্নরূপে কোলাহল তৈয়ারি করিয়াছে কবে বিশ্ববিদ্যালয় খুলিবে এই বলিয়া। সেই সকল অজ্ঞানীরা বিভিন্নরূপে গুজব ছড়াইয়াছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় খুলিয়া যাইতেছে। তাহাদের গুজব কতটা বৃহৎ রূপ ধারন করিয়াছিল তাহা নিশ্চয় পাঠক রচনার শুরুতেই আমি যে গদ্যটি লিখিয়াছিলাম তাহা থেকে ধারনা করিতে পারিতেছেন। এইসব গুজব প্রচারকারীগণ ধারনা করিয়াছিলেন গুজবে কান লাগাইয়া সকল শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হইবে আর তখন বিশ্ববিদ্যালয় আপনাতেই খুলিয়া যাইবে। কিন্তু দেশের এই ক্ষতিটি তাহারা কেন করিতে চাহিতেছেন? ইহাতে নিশ্চয়ই তাহাদের কোন গুপ্ত উপকার সাধিত হইবে। না হইলে নিজের দেশের এত বড় ক্ষতিসাধন তাহারা কেন করিতে চাহিবেন? কিন্তু তাহাদেরকে বলিতেছি, গুজব ছড়াইয়া কোন লাভ হইবে না। কারন ইহা আমাদিগের মঙ্গলের নিমিত্তেই করা হইয়াছে। আর আপন ভালো যদি কেহ না বুঝিতে পারে তখন তাহাকে কি বলিব। কেননা বলা হইয়া থাকে, আপন ভালো পাগলেও বোঝে।

পুনশ্চ: সম্প্রতি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় খুলিয়া দেয়ার ঘোষনা দেওয়া হইয়াছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছাত্র রাজনীতিকগণ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া আবারো দেশের উপকার সাধনে নিমিত্ত হইবেন।

Bookmark and Share